দৈনন্দিন হাজিরা (Daily attendance): হিউম্যান রিসোর্স অফিসারকে প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের একেকটি ইউনিটের কর্মীদের হাজিরা গণনা করতে হয়। এক্ষেত্রে সপ্তাহে ছয় দিন কার্য দিবস ধরে হিসাব করা হয়। এতে প্রতিটি কর্মীর কার্য দিবস হবে ২৫ দিন বা ২৬ দিন। এজন্য হিউম্যান রিসোর্স সহকারী/নির্বাহীকে কর্মীদের হাজিরা বই বা উপস্থিতি পত্র থেকে তাদের হাজিরা গুনে দেখতে হয়। যেখানে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বা কম্পিউটারভিত্তিক উপস্থিতি নেওয়া হয় সেখানে কম্পিউটারের রেকর্ড দেখে হাজিরা গণনা করতে হয়। আর, কম্পিউটারের সফটওয়্যারে গণনা পদ্ধতির অপশন থাকলে সেখান থেকে গণনার তথ্য সংগ্রহ করে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এভাবে পুরো প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীর হাজিরা বা ইউনিটভিত্তিক কর্মীর হাজিরা গণনা করতে হয়।
→ কর্মীদের কর্মঘন্টা ও অতিরিক্ত কর্মঘন্টা (Working hour and overtime working hour of employees): এক্ষেত্রে হিউম্যান রিসোর্স ব্যবস্থাপক বা তার সহকারীদেরকে কর্মীর দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কর্মঘণ্টা হিসাব করে দেখতে হয়। কর্মঘণ্টার ভিত্তিতে কোনো অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা থাকলে তা হিসাব করা হয়। এজন্য কর্মীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ হতে প্রস্থান পর্যন্ত সময়কে গণনায় নেওয়া হয়। এভাবে সপ্তাহের সব কর্ম দিবসের হিসাব করা হয়। উক্ত কর্মঘন্টা থেকে ন্যূনতম কর্মঘণ্টা বাদ দিয়ে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বের করা হয় ।
ধরা যাক,
একজন কর্মীর ২০২২ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের কর্মঘণ্টার তথ্য নিম্নরূপ—
০৫.০৩.২০২২ (শনিবার). ........০৯ ঘণ্টা
০৬.০৩.২০২২ (রবিবার) ..............০৯ ঘণ্টা
০৭.০৩.২০২২ (সোমবার) ………..…১১ ঘণ্টা
০৮.০৩.২০২২ (মঙ্গলবার)… ………..১০ ঘণ্টা
০৯.০৩.২০২২ (বুধবার) ...........১১ ঘণ্টা
১০.০৩.২০২২ (বৃহস্পতিবার) .......০৮ ঘণ্টা
মোট = ৫৮ ঘণ্টা
তাহলে, এক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী একজন কর্মী ৬ × ৮ = ৪৮ ঘণ্টা কাজ করার কথা। তাহলে, উক্ত কর্মীর অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা হবে (৫৮ ৪৮) = ১০ ঘণ্টা। ।
এভাবে হিউম্যান রিসোর্সের কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা গণনা করতে হয়
অনুপস্থিতি গণনা (Absence Counting): কর্মীরা বিভিন্ন কারণে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে পারে। এজন্য হিউম্যান রিসোর্স নির্বাহী/ম্যানেজারকে এই অনুপস্থিতি গণনা করতে হয়। এক্ষেত্রে কর্মীদের উপস্থিতি পত্র হতে উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এর পর উক্ত পত্র/কম্পিউটার তথ্য হতে মাসের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিতির সংখ্যা গণনা করতে হয়। এভাবে পুরো ইউনিটের কর্মী বা প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীর তথ্য সংগ্রহ করে সর্বমোট অনুপস্থিতির সংখ্যা বের করতে হয়।
জনতত্ত্ব গণনা (Demographic counting): জনতত্ত্ব হলো কর্মীদের মানবীয় বৈশিষ্ট্যগত বিষয়। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো- কর্মীদের মধ্যকার পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা, তাদের বয়স, বৈবাহিক অবস্থা প্রভৃতি। এজন্য কর্মীদের সার্বিক তথ্যমালা সংগ্রহ করতে হয়। এরপর জনতত্ত্বের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ছক তৈরি করতে হয়। উক্ত ছকে কর্মীদের আইডি নম্বর ও নামের পাশে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সন্বিবেশ করে ছকটি পূরণ করতে হয়।
→ শ্রমিক আবর্তন ( Employee turnover) : প্রতিষ্ঠান চলমান থাকে বা নিজের অবস্থানেই থাকে। আর কিছু লোক চলে যায় আবার কিছু লোক আসে। অনেক সময় কিছু কিছু লোককে বিদায় দিয়ে নতুন লোক নিতে হয়। এই বিদায় দেওয়া ও নতুন নেওয়ার বিষয়টিকে শ্রমিক আবর্তন বলে। অর্থাৎ, কী মাত্রায় কর্মী চলে যায় বা কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং নতুন কর্মী নেওয়া হয় তাকে শ্রমিক আবর্তন বলা হয়।
হিউম্যান রিসোর্স বিশ্লেষণ বিষয়ক বিভিন্ন সূত্র (Formula for Human Resource Analysis)
প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হিউম্যান রিসোর্সকে উন্নয়ন ও কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন হিউম্যান রিসোর্সের কার্যফল মূল্যায়ন। এই কার্যফল মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কাজ পরিমাপ করতে হয়। এসব প্রয়োজনে বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করা হয়। নিচে হিউম্যান রিসোর্স বিশ্লেষণ বিষয়ক বিভিন্ন সূত্র তুলে ধরা হলো-
→ শ্রমিক আবর্তনের হার (Employee turnover rate): কর্মীরা বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানে ছেড়ে চলে যায়। এই চলে যাওয়া ও নতুন কর্মী আসার হারকে শ্রমিক আবর্তনের হার বলা হয়। এজন্য একটি সূত্র ব্যবহার করা হয়। সূত্রটি হলো—
শ্রমিক আবর্তনের হার = চলে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা কর্মীর গড় সংখ্যা/এক বছরে চলে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা
অথবা, (বছরের শুরুতে কর্মীর সংখ্যা + বছরের শেষে কর্মীর সংখ্যা)/২
ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের শুরুতে কর্মীর সংখ্যা ছিল ২৫০ জন। বছরের বিভিন্ন সময়ে ২৪ জন কর্মী চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। বছরের শেষে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৫০ জন। তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক আবর্তনের হার হবে-
এক বছরে চলে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা/(বছরের শুরুতে কর্মীর সংখ্যা + বছরের শেষে কর্মীর সংখ্যা)/২
= (২৫০ + ৩৫০) : ২ 28 x ১০০ = ৮%
= অর্থাৎ, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক আবর্তনের হার হবে ৮%।
→ অনুপস্থিতি গণনা (Absence Counting) : প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির পরিমাণ কেমন, তাদের কাজে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা কোন পর্যায়ে তা পরিমাপের জন্য অনুপস্থিতি গণনা করা হয়। এক্ষেত্রে খুঁজে দেখা হয় যে, শ্রমিকরা পূর্ব ঘোষণাকৃত ছুটির বাইরেও তারা কী পরিমাণ ছুটি কাটায়। অনুপস্থিতির হার গণনার ক্ষেত্রে দু'ধরনের পদ্ধতি/ভিত্তি ব্যবহার করা যায়। যথা-
নির্ধারিত ছুটির বাইরে নেওয়া ছুটির মোট দিনের সংখ্যা/মোট কর্মীর সংখ্যা
১. কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে অনুপস্থিতির হার = ধরা যাক, প্রতিষ্ঠানে মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১০০ জন। সারা বছরে ঘোষিত ছুটির বাইরে কাটানো ছুটির পরিমাণ ২০০ দিন। তাহলে-
শ্রমিকের অনুপস্থিতির হার = নির্ধারিত ছুটির বাইরে নেওয়া ছুটির মোট দিনের সংখ্যা মোট কর্মীর সংখ্যা - দিন / ২ দিন অর্থাৎ, ছুটির তালিকার বাইরে একেকজন কর্মী গড়ে বছরে ২ দিন ছুটি কাটিয়েছে। ছুটির তালিকা বহির্ভূত ছুটি
২. সময়ের ভিত্তিতে অনুপস্থিতির হার = ছুটির তালিকা বহির্ভূত ছুটি/মোট সময় × ১০০
→ জনতত্ত্ব গণনা ( Demographic Counting) : প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত লোকবলের/হিউম্যান রিসোর্সের মানবীয় বিভিন্ন দিক এখানে বিশ্লেষণ করা হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো-
বয়স;
লিঙ্গ;
জাতি-গোষ্ঠী
ধর্ম এলাকা;
আয়ের স্তর;
চাকরির ধরন;
শিক্ষার স্তর প্রভৃতি ।
ওপরের বিষয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মোট কর্মীর সাথে তুলনা করে মানবসম্পদের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে।
ধরা যাক, কোনো ইউনিটের মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১০০ জন। এর মধ্যে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ জন। তাহলে মহিলা শ্রমিকের হার হবে—
মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা/মোট শ্রমিকের সংখ্যা = ২৫ /১০০ x ১০০ = ২৫% ।
অর্থাৎ, উক্ত ইউনিটে মহিলা শ্রমিকের হার ২৫%।
Read more